শূরী বংশ

পানিপথের প্রথম যুদ্ধে ও পরে ঘর্ঘরার যুদ্ধে আফগান শক্তির পরাজয় ঘটলেও তারা একেবারেই শক্তিহীন হয়ে পড়ে নি। বাবরের মৃত্যুর পর হুমায়ুন দিল্লির সিংহাসনে বসলে আফগানরা আবার পুনরায় শক্তিশালী হয়ে ওঠে। আফগানরা তাদের হারানো রাজ্য পুনরুদ্ধারের জন্য বারবার চেষ্টা চালিয়ে যায়। 
শেরশাহ :
শের খাঁর নেতৃত্বে আফগানরা নতুনভাবে পুনরুজ্জ্বীবিত হয় এবং মুঘলদের হাত থেকে দিল্লির সিংহাসন পুনরূদ্ধারে মরিয়া হয়ে ওঠে। শের খাঁ এর আদি নাম ছিল ফরিদ খাঁ। তার পিতা হাসান ছিলেন শূরবংশীয় অফগান। এই কারণে শেরশাহের প্রতিষ্ঠিত রাজবংশকে বলা হয় শূর বংশ। শেরশাহ ছিলেন এই বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা। মুঘল সম্রাটের দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে ১৫৪০ খ্রিস্টাব্দে বিল্বগ্রাম বা কনৌজের যুদ্ধে মুঘল সম্রাট হুমায়ুনকে পরাজিত করে তিনি দিল্লীর সিংহাসন দখল করেছিলেন। তার রাজত্বের সময়কাল মাত্র ৫ বছর। কিন্তু এই অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি শাসন সংস্কার ও জনকল্যাণকর অনেক কাজ করেছিলেন। সুশাসনের জন্য তিনি সাম্রাজ্যকে ৪৭ টি সরকারে ও প্রত্যেকটি সরকারকে কয়েকটি পরগনাতে ভাগ করেছিলেন। এছাড়া বিচার বিভাগের সংস্কার ও জমিজমার স্থায়ী বন্দোবস্ত এর জন্য কবুলিয়াত পাট্টা প্রথম প্রচলন করেন। রাজ্যের সমস্ত প্রজাদের ভূমিস্বত্ব তিনি প্রথম ঠিক করে দিয়েছিলাম। তিনি প্রথম ভারতের ঘোড়ার ডাকের ব্যবস্থা প্রচলন করেন। যাতায়াতের সুবিধার জন্য তিনি বাংলাদেশ থেকে পাঞ্জাব পর্যন্ত গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড নামে সুদীর্ঘ রাজপথ তৈরি করেন। এছাড়াও জনসাধারণের জন্য পথ নির্মাণ, সরাইখানা স্থাপন প্রভৃতি বহু জনহিতকর কাজ করেছিলেন। ১৫৪৫ খ্রিস্টাব্দে শেরশাহের মৃত্যু হয়।
ইসলাম শাহ :
শের শাহের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র ইসলাম শাহ দিল্লির সিংহাসনে বসেন। কিন্তু রাজ পরিবারের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব শুরু হয় এবং প্রাদেশিক  শূর শাসনকর্তারা একে একে স্বাধীনতা ঘোষণা করে। এই সুযোগে হুমায়ুন পারস্যের অধিপতি শাহ তহমাস্পের সাহায্যে ভারতের হারিয়ে যাওয়া রাজ্য পুনরুদ্ধার করতে সমর্থ হন। এভাবেই আবার ভারতে মোগল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা হয়। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Translate